ঢাকা, ১৩ এপ্রিল ২০১৮। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ১৪২৪ বঙ্গাব্দের চৈত্রকে বিদায় এবং ১৪২৫ বঙ্গাব্দের বৈশাখকে আহ্বান উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের উদ্যোগে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে দেশের বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী শামা রহমান-এর একক সংগীত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের কীপার ড. শিহাব শাহরিয়ার। অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন জননন্দিত কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন।
স্বাগত ভাষণে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের কীপার ড. শিহাব শাহরিয়ার বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর নিয়মিত যে সংগীতসন্ধ্যার আয়োজন করে, তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই অনুষ্ঠান। কিন্তু অনুষ্ঠানটি বিশেষ অনুষ্ঠান হিসেবে আমরা আজ করতে চাচ্ছি, কারণ রাত ফুরোলেই বাংলা নতুন বছর ১৪২৫। পুরনো বছরকে বিদায় ও নতুন বছর বরণের উদ্যোগেই এই আয়োজন। আশা করি এই আয়োজন সবাইকে আনন্দ দিবে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে জননন্দিত কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, আমি শামা রহমানের গানের ভক্ত আজকের সন্ধ্যায় তাঁর গানে মুগ্ধ হতেই এসেছি।
শামা রহমান বর্তমানে বাংলাদেশের একজন অন্যতম রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী। তিনি প্রয়াত ওস্তাদ ফজলুল হকের কাছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে প্রশিক্ষণ নেন। পাঁচ বছর তিনি ছাত্রী ছিলেন বুলবুল ললিতাকলা একাডেমিতে- সেখানে রবীন্দ্রসংগীতের শিক্ষা নিয়েছিলেন আতিকুল ইসলামের কাছে। শামা রহমানের রবীন্দ্রসংগীত নিয়ে ১৪টি অ্যালবাম বের হয়েছে। এর আগে ২০১২ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫০ তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে প্যারিস ইউনেস্কো থেকে তার পাঁচটি রবীন্দ্রসংগীতের অডিও অ্যালবাম প্রকাশ পেয়েছে। একই সঙ্গে গীতাঞ্জলি‘র ১০০ বছর উদ্যাপন উপলক্ষে ইউনেস্কো তার আরো চারটি অডিও অ্যালবাম প্রকাশ করেছে। প্যারিসে শামা রহমানের একটি একক কনসার্টের আয়োজন করে ইউনেস্কো। সেখান থেকে বিশ্বব্যাপী তার নয়টি অ্যালবাম মোড়ক উন্মোচন করেছিল ইউনেস্কো।
এরপর শামা রহমান রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে শ্রোতামণ্ডলীকে মোহিত করে রাখেন। তাঁর গাওয়া কয়েকটি গানের মধ্যে রয়েছে, ‘ধায় জানো মোর সকল ভালোবাসা’ ‘গানের ভেতর দিয়ে যখন দেখি’ ‘আজ জোছনা রাতে সবাই গেছে বনে’ ‘নুতন প্রাণদায় হে প্রাণো সখা’ ‘নব আনন্দে যাবো’। অনুষ্ঠানে উপস্থিত শ্রোতামণ্ডলী শিল্পীর পরিবেশনা বিমোহিত হয়ে উপভোগ করেন ।