দেশরত্ন শেখ হাসিনার ৭১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ৭১ টি প্রতিকৃতি ও ১০১ টি সূচিশিল্প প্রদর্শনীর সমাপনী অনুষ্ঠান।

ঢাকা, ২৮ অক্টোবর ২০১৮। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার বড় মেয়েকে আদর করে হাসুমণি বলে ডাকতেন। হাসুমণি বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর গতিশীল নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশ বিশ্বে মর্যাদার সাথে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে এবং তিনি তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনের ৭১ বছর পার করেছেন । বাংলাদেশের ৭১ জন শিল্পী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ৭১টি প্রতিকৃতি করেছেন। সেই প্রতিকৃতিসমূহ নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী প্রদর্শনী গ্যালারিতে এবং জামালপুরের সুচিশিল্পীদের ১০১টি সুচিকর্ম নিয়ে প্রধান মিলনায়তন লবিতে আয়োজন করা হয় বিশেষ প্রদর্শনী। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর এবং হাসুমণির পাঠশালা যৌথভাবে এই প্রদর্শনীর আয়োজক।

এই শৈল্পিক আয়োজনের সমাপনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ও বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব ওবায়দুল কাদের এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের এডভোকেট ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ জনাব মোহাম্মাদ বাকী বিল্লাহ ও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক জনাব মো. মাক্‌ছুদুর রহমান পাটওয়ারী। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন হাসুমণি পাঠশালার সভাপতি ও বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী সদস্য মারুফা আক্তার পপি।

 

স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সচিব মোঃ শওকত নবী বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর এবং হাসুমণির পাঠশালা যৌথভাবে আয়োজিত এই প্রদর্শনীটি সফল ভাবে ১৫ দিন ব্যাপী চলেছে যেখানে দেশরত্ন শেখ হাসিনারকে নিয়ে তৈরি ৭১টি প্রতিকৃতি ও জামালপুরের সূচিশিল্পীদের ১০১টি সূচিশিল্প। হাসুমণির পাঠশালার সাথে যৌথ ভাবে এই আয়োজন করতে পেরে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরও কৃতজ্ঞ। তিনি বিশ্বাস করেন হাসুমণির পাঠশালা ভবিষ্যতে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছাবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনাব ওবায়দুল কাদের এমপি বলেন- “হাসুমণির পাঠশালা” চমৎকার একটা নাম। যে নামটা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আদর করে ডাকতেন। তিনি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার। অনেক সুন্দর একটা আয়োজন এটা। আমি সত্যি মুগ্ধ প্রতিকৃতি ও শিল্পকর্মগুলো দেখে। এত সুন্দর একটা আয়োজন করার জন্য মারুফা আক্তার পপি কে অনেক ধন্যবাদ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জনাব মোহাম্মাদ বাকী বিল্লাহ এত সুন্দর একটা প্রদর্শনী আয়োজন করার জন্য মারুফা আক্তার পপি কে অনেক অভিনন্দন জানান। অসাধারণ চিন্তার এই প্রদর্শনী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার ৭১টি প্রতিকৃতি নিয়ে এটিই সর্ববৃহৎ একক প্রদর্শনী।

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ বলেন- বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও মুক্তিযুদ্ধ কে অনেক সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছে প্রতিকৃতি ও সূচিকর্মের মাধ্যমে। এটা অনেক বড় সম্মানের কাজ। আমি অনেক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি হাসুমণির পাঠশালার প্রতিষ্ঠাতা মারুফা আক্তার পপি কে এত সুন্দর , মনোমুগ্ধকর প্রদর্শনীর আয়োজন করার জন্য।

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক জনাব মো. মাক্‌ছুদুর রহমান পাটওয়ারী বলেন- হাসুমণির পাঠশালার সাথে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর যৌথভাবে এমন একটি গুরুত্বপূণ প্রদর্শনী আয়োজন করতে পেরে জাদুঘর যেমনি সাথক, আমিও গর্বিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে কিছু কথার বলার সুযোগ পেয়ে। প্রতিকৃতি গুলো অত্যান্ত নিখুঁত সাবলিলভাবে অংকন করেছ্নে। হাসুমণির পাঠশালার প্রতিষ্ঠাতা মারুফা আক্তার পপি কে ভবিষ্যতে আরো অনেক প্রদর্শনী আয়োজন করার উৎসাহ দেন এবং ভবিষ্যৎ মঙ্গল কামনা করেন।

সভাপতির বক্তব্যে মারুফা আক্তার পপি বলেন- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার ৭১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রদর্শনীর আয়োজন করে নিজেকে ধন্য মনে করছেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর কে ধন্যবাদ জানান হাসুমণির পাঠশালার সাথে যৌথ ভাবে এই প্রদর্শনী আয়োজন করার জন্য এবং তিনি আশ্বাস রাখেন, ভবিষ্যৎএ এর থেকে আর বড় প্রদর্শনী আয়োজনে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর সহযোগিতা করবে। তিনি বলেন, আমরা নতুন প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধু ও তার মেয়ে শেখ হাসিনার মতাদর্শ, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, আন্তরিকতা, সততা, ভক্তি ও গতিশীলতা হাসুমণির পাঠশালার মাধ্যমে দেশের সকল মানুষের কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি আরো বলেন, নতুন প্রজন্ম জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার মেয়ে শেখ হাসিনার জীবন ও কাজ থেকে অনুপ্রেরণা ও উৎসাহ লাভ করবে।